বিয়ের আসর থেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীনি!

ফটিকছড়িতে বিবাহের একদিনের মাথায় এক নববুধ এসএসসি পরীক্ষার্থী স্বামীর বাড়ী থেকে এসে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে। বিয়ের পর এই নববধু পরীক্ষা দিতে আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কৌতুহুল সৃষ্টি হয়।

এসএসসি পরীক্ষার ফটিকছড়ি কেন্দ্র -৪ নানুপুর আবু সোবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ে অংশ গ্রহন করা পরীক্ষার্থী চুমকি শীল । সে দক্ষিন ফটিকছড়ির ড.এনামুল হক একাডেমীর ছাত্রী এবং উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নের জাদুরাম শীল বাড়ীর দিপক কুমারের মেয়ে । গত বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ এলাকার মৃত কিরাম শীলের ছেলে বিশ্বজিৎ এর সাথে তার বিবাহ হয়।

সরেজমিনে গতকাল পরিদর্শনে দেখা যায় , ছাত্রী চুমিক শীল নানুপুর আবু সোবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসলে তার ড্রেস আপ ছিল বাঙ্গালীর নব গৃহবুধ’র মত । হাতে মেহেদী ও কাচঁ পড়ানো । মুখে মুন্ডল আলকাতারে সাজানো।

অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে তাকে ভিন্ন দেখাতে অনেকে মনে কৌতুহুলী জন্মেছে এ সময় । পরে উক্ত পরীক্ষার্থী চুমকি শীলের সাথে কথা বললে তিনি জানান ,এক মাসে পূর্বে চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ এলাকার একজন প্রবাসী ব্যক্তির সাথে তার বিবাহ দিনক্ষন ঠিক হয় । এরেই সুবাধে হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাতে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
রীক্ষার কেন্দ্রে আসা চুমকি শীল ’র স্বামী বিশ্বজিৎ বলেন লেখাপড়ার ১০ বছরের সাধনা বিবাহ অনুষ্ঠানের মধ্যে শেষ হতে পারে না । তাই আমার সম্মতিতে আমার স্ত্রী এস এস সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে । তিনি আরো বলেন যে দিন পরীক্ষা থাকবে সে দিন ফতেয়াবাদ থেকে এসে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে ওই দম্পতি । এদিকে মেয়েটির প্রাপ্ত বয়স থেকে কিছু কম হওয়া কিভাবে বিবাহ হয়েছে তা ফটিকছড়ি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম উভয়কে উভয়ের অভিভাবকদের নিয়ে কাল রবিবার তাঁর কার্যালয়ে আসতে বলেন।

উল্লেখ্য উক্ত চুমকির জন্ম তারিখ পরীক্ষার রেজিষ্টেশন অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১০ মার্চ ১৯৯৭ ইংরেজী । সে হিসেবে বিবাহের ১৮ বছর পূর্ণ হবার কয়েক মাস বাকী । তবে হিন্দু রীতি অনুযায়ী ১৮ বছরের পূর্বে বিবাহ আইন সংঙ্গত কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য তাদেরকে নিবার্হী কর্মকর্তা তলব করা হয়েছে।

Leave a Reply